রাজশাহীতে শীতের তীব্রতাঃ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৬, ২০২৬

সারাদেশে তীব্র শীতের আলোয় কাঁপছে রাজশাহী। আজ, ৬ জানুয়ারি, ভোর ৬টা নাগাদ এই শহরে তাপমাত্রা নেমে এসেছে মাত্র ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মৌসুমের সবচেয়ে নিচের রেকর্ড। যদিও আকাশে এখনো ঘন কুয়াশার ভার থাকলেও, হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় জনজীবন কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, গতকালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি, আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায়, বাতাসের আর্দ্রতা ১০০ শতাংশ থাকায় শীতের তীব্রতা আগের চেয়েও বেশি মনে হচ্ছে।

প্রকৃতির এই রুদ্র রূপে শহর এবং গ্রাম—উভয় অঞ্চলে মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আজ ভোর ৬:৪৭ মিনিটে সূর্যোদয় হওয়ার কথা থাকলেও, কুয়াশা এবং মেঘের ঘনত্বে সূর্যের দেখা মিলেনি। দীর্ঘ সময় সূর্যের উষ্ণতা না পাওয়ায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় কম দেখা যাচ্ছে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এই আবহাওয়া খুবই অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শীতের এই দুর্দিনে সবচেয়ে কষ্টে পড়ছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষরা। সকালে পেটের তাগিদে রিকশাচালক, কুলি এবং মজুররা ঠাণ্ডায় কাহিল হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় রিকশাচালক আবদুল কুদ্দুস জানান, খুব কষ্ট হলেও জীবিকার প্রয়োজনে তাঁরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন। মাঘ মাসের শুরুতেই এমন অস্বাভাবিক শীত এবং কনকনে বাতাসের কারণে সড়কের পরিস্থিতি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রার এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন শীতার্ত ও দুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের কাজ শুরু করলেও চাহিদার তুলনায় তা খুবই সামান্য। কিছু মানুষ খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। মোটের উপর, তীব্র শীতের কারণে রাজশাহী অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা অনেকটাই স্থবির হয়ে গেছে।