ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান নিয়ে জাতিসংঘের জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক সোমবার

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও প্রত্যাহার করার ঘটনায় সৃষ্টি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে এদিন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, কলম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাশিয়া ও চীন এই উদ্যোগের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এই আলোচনায় বর্তমান সংকটের বিভিন্ন দিক স্বচ্ছভাবে উঠে আসবে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই জটিল পরিস্থিতির সমাধানে চিন্তা-sh্লক করবে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এই সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে বলেন, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এই ধরনের হস্তক্ষেপ ইউনাইটেড নেশনস সনদের মূল নীতির বিরোধী এবং বিশ্বস্তৈর্য্য ও স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদ ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে দুটি বৈঠক করলেও, সাম্প্রতিক এই অভিযানের কারণে এখন পরিস্থিতি আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মহলে অংশীদারদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থীতির জন্য ব্যাপক আলোচনা চলছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ভেনেজুয়েলায় দায়িত্বশীল ও সুষ্ঠু ক্ষমতা হস্তান্তর ছাড়া ওয়াশিংটনই দেশটি পরিচালনা চালিয়ে যাবে। কিন্তু এই পরিকল্পনার বিশদ কোনো প্রকা শনা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মোনকাদা জাতিসংঘে প্রতিবাদে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন, যেখানে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান উদ্যোগটি ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত সরকারকে ধ্বংস করার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ এর পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, এটি কোনো শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নেওয়া একটি পদক্ষেপ। তিনি মাদুরোকে অবৈধ শাসক ও মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা বলে অভিযুক্ত করেন। তাঁর কর্মকাণ্ডের জন্য মার্কিন নাগরিকদের ওপর প্রভাব পড়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন সোমবারের এই বৈঠক আন্তর্জাতিক মহলে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্কের ঝড় তুলতে পারে। ভবিষ্যতে এই পরিস্থিতি কেমন গড়াবে, তা নিয়ে বিশ্বশক্তির যুক্তি-তর্ক ও কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।