ভেনিজুয়েলায় মাদুরোকে আটক: ৪০ জনের মৃত্যু

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৬

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে মার্কিন সরকারের পরিচালনায় চালানো অপ্রতুল ও শক্তিশালী সামরিক অভিযানে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ প্রাণহানির মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি সেনাসদস্যও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক সিনিয়র ভেনিজুয়েলান কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, মার্কিন সামরিক হামলায় বেশ কয়েকজন নিহতের মধ্যে বেসামরিক ও সেনা সদস্য উভয়ই রয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভেনিজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান চালায়। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করতে ১৫০টির বেশি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়। এর ফলে মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে দেশটির সেনা পাঠাতে সক্ষম হয়। এরপর সেই সেনারা মাদুরো-এর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান ও হতাহত বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় গত শনিবার ভোরে মার্কিন সেনারা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর সঙ্গে হামলা চালিয়ে তাদের দেশ থেকে নিয়ে যায়। এই ঘটনা বিভিন্ন মহল থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জাগায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাকে ‘শক্তিশালী ও চমৎকার প্রদর্শনী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি আরও বলেন, যখন পর্যন্ত ভেনিজুয়েলায় একটি নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটে না, ততক্ষণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে কার্যকর থাকবে।

অপরদিকে, নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কৌঁসুলিরা বিষয়টি তদন্তে এই অভিযাগের ব্যাপারে একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করেছেন, যাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিশ্লেষক ও সমালোচকেরা বলছেন, এ ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযান আইনের লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালা পরিপন্থি। তারা মনে করেন, এই অপ্রত্যাশিত ও একতরফা উদ্যোগ লাতিন আমেরিকার অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরো বাড়াবে।

চীনও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবিলম্বে মুক্তির আহ্বান জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বলেছে, এই ধরনের জোরপূর্বক আটক আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা আরও বলেছে, চীন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।

অভিযানের পর, মার্কিন সেনারা ভেনিজুয়েলায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে এবং তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, মাদুরোকে আটক করার পর তাদের বিচারে হাজির করা হবে।

ওদিকে, মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দায়িত্বপ্রাপ্ত করে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেয় দেশটির সরকার। দেশের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর, ট্রাম্প মন্তব্য করেন যে, ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী কাজ করলে সেক্ষেত্রে দেশটিতে সরাসরি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজন হবে না। তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডেলসি ইতোমধ্যে পাল্টা শপথ নিয়েছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন।

প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে অনেক দেশ এ ঘটনা নিয়ে মত বিভিন্ন। মূলত, বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই চাপানউতোর বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।