ব্যবসায়ীদের দাবি: ট্রাভেল এজেন্সি ‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিল করো

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৬

সদ্য প্রকাশিত ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ কে ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর এবং অবৈধ ‘কালো অধ্যাদেশ’ বলে অভিহিত করে তা বাতিলের জোর দাবি করেছেন এই খাতের শীর্ষ নেতারা এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা। রোববার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা হুঁশিয়ার করে বলেন, এই নতুন বিধান কার্যকর হলে দেশের প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ্যাটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন যে, এই আইনটির বিভিন্ন ধারা কীভাবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াবে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এই অধ্যাদেশের গেজেটে কিছু বিধান রয়েছে যা সাধারণ এজেন্সিগুলোর কার্যক্রমকে কার্যত অচল করে দেবে। বিশেষ করে, অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কেনাবেচা নিষিদ্ধ করার কারণে প্রায় পাঁচ হাজার নির্দিষ্ট নয়-আয়াটা ব্যবসায়ীর জন্য বড় আকারের সমস্যা তৈরি হবে। বাংলাদেশে নিবন্ধিত মোট পাঁচ হাজার আটশো এজেন্সির মধ্যে শুধুমাত্র আটশোটি সরাসরি বিমান সংস্থার টিকিট ইস্যু করতে পারে। বাকি এজেন্সিগুলোর ওপর অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়, আর এই স্তরটি বন্ধ হয়ে গেলে তারা বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতে ব্যর্থ হবে এবং তাদের লাইসেন্স নবায়ন করানো কঠিন হয়ে পড়বে। এছাড়া, অফলাইন এজেন্সিগুলোর জন্য ১০ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদানের শর্তটিও একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ও অস্বাভাবিক বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটাবের সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপু রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে এক ঠিকানায় ব্যবসা পরিচালনার নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, একই অফিস ব্যবহার করলে অভিবাসী কর্মীদের সেবা খরচ কমে, কিন্তু পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক হলে বিদেশগামীদের খরচ আরও বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, শুনানি না নেওয়া বা স্থগিত করার বিধান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করলে তা চরম হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।