এনসিপির নেতারা জামায়াত ট্যাগ এড়াতে দল ছাড়ছেন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন এক ধরনের আভানপ্রাপ্ত টানাপড়েনে জড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মিলেমিশে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু হওয়া এই দলটি নিজের আদর্শ ও নীতিমালা পরিবর্তন করে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়ার জন্য বাধ্য হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এর ফলে দলের নেতাকর্মীরা নানা ধরণের অস্বস্তি ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। অতীতে, নির্বাচন, গণভোট ও সংস্কার নিয়ে দলের নেতারা একসঙ্গে থাকলেও নতুন বছর শুরু হতেই তারা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন, বিশেষ করে জামায়াতের সঙ্গে জোট ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে বলে মনে করছেন many within the party। এই পরিস্থিতি সত্ত্বেও, এনসিপি নেতারা আশাবাদী রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে এবং তারা এই সংকট থেকে উত্তরণ করবেন বলে বিশ্বাস প্রকাশ করছেন। গত ৭ ডিসেম্বর, এনসিপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এবং সমাজের অন্যান্য পক্ষ মিলে একটি নতুন রাজনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার ঘোষণা দেয়, যার নাম ছিল ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’। তবে সেটি এমন সময়ে হবেই না, যখন চলচ্চিত্রের মতো গতিতে দলটির ভেতরে বিতর্ক শুরু হয়, গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আটটি দলীয় জোটে যোগ দেয় এনসিপি। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে দলের অভ্যন্তরে চরম টানাপড়েন শুরু হয়েছে। দলের একটি সূত্র জানায়, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে ৩০ জন কেন্দ্রীয় সদস্য তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। তারা দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়ে এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই চিঠিতে তারা জানান, এনসিপির মূল আদর্শ, ৭৪’র গণঅভ্যুত্থানের সংকল্প ও গণতান্ত্রিক নৈতিকতা হঠাৎ করে ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকা, বিভাজনমূলক কার্যকলাপ, গুপ্তচরবৃত্তি ও নারীদের চরিত্র হননের চেষ্টা এবং সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কার কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন নেতারা। অন্যদিকে, দল থেকে পদত্যাগ করা অনেক নেতা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত ও লজ্জাজনক। তারা নিজেরাই জানান, তখন বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত। এই সিদ্ধান্তের কারণে, এখন পর্যন্ত প্রায় ডজনখানেক নেতা এনসিপি থেকে বিদায় নিয়েছেন, যেখানে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি তাদের এই জোটের বিরুদ্ধে অসন্তোষও বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলেন ডা. তাসনিম জারা, যিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন এবং ঢাকা-৯ আসনের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। পদের পর, তিনি এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরূপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া, আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও মিডিয়া সেল প্রধান মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনও দলান্তর করেছেন। সামনে নির্বাচনের জন্য দলটি নতুন করে প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং নেতারা বলছেন, তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির বলেন, নতুন বছরের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভালো ফলাফল অর্জন এবং জাতীয় ঐকমত্য ও সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা। তিনি আরও বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচেষ্টা চালানো, নতুন সংবিধান গড়ে তোলা এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, গয়ণঅভ্যুত্থানের শক্তিকে একত্রিত করে দেশের ঐক্য সৃষ্টি করা এবং গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তিকে সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন দলের নেতারা। দলটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের বক্তব্যে, মূলত শ্রমিক ও ছাত্ররাই এই শক্তির প্রধান ভিত্তি। তবে, দলের অভ্যন্তরে কিছু নেতাকর্মী অভিমান করে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে, যা দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, এনসিপি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে দলের ভেতরে এখনো নানা ধরনের অস্থিরতা ও দ্বন্দ্ব রয়েছে, যা সরকারের নিরপেক্ষ ও কার্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES রাজনীতি বিষয়: