পঞ্চগড় নতুন উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে হাঁটছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামানের নেতৃত্বে মাত্র দুই মাসের মধ্যে জেলার সার্বিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতার অভাব, পরিবেশ দূষণ এবং চা-শিল্পে বেআইনি অনিয়মের কারণে এলাকাটির চেহারা ছিল অনেকটাই অবনতি। তবে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে এখন পঞ্চগড় শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময় পঞ্চগড় শহরের সড়কগুলো ছিল চলাচলের অযোগ্য। ধুলাবালি, বালির স্তূপ, ময়লার স্তূপ ও আবর্জনায় নগরবাসী চরম দুর্ভোগে পড়ত। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে এই ধুলার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হতো। এখন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পানি ছিটানো হচ্ছে, পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে নোঙ্গর পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, মূল সড়কগুলো থেকে জমে থাকা বালির স্তূপ ও ময়লা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। এর ফলে শহরের পরিবেশ সুন্দর ও পরিষ্কার হচ্ছে, নাগরিকদের ভোগান্তিও কমে আসছে। পরিবেশ রক্ষায় এবং জনস্বাস্থ্যের কথা ভেবে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অবৈধ ইটভাটাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করছে। এছাড়া, দ্রুত আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। সম্প্রতি পঞ্চগড় ট্রাক টার্মিনালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক শিক্ষিকা নিহত হলে এলাকাবাসীর ক্ষোভ থেকে বিক্ষোভ শুরু হলে জেলা প্রশাসক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। একইভাবে রেলস্টেশনেও রেলক্রসিংয়ে চালকের মৃত্যু ও নির্দেশিত সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উপস্থিত হয়ে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করেন। এসব পরিস্থিতিতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও মাঠপর্যায়ের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ খাত চা-শিল্পেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সবুজ চা-পাতার মূল্য নির্ধারণী এক মতবিনিময় সভায় চা-শিল্পের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য অংশের অংশগ্রহণে প্রতিটি কেজির সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮ টাকা করা হয়, যা চা-চাষিদের জন্য সুখবর। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে চা-চাষিদের নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হবে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন ছাড়া কাউকে সরকারি সার ও কৃষি সহায়তা দেয়া হবে না এবং নিবন্ধনবিহীন চা-চাষিরা কারখানাগুলো থেকে সবুজ চা-পাতা কিনতে পারবে না। তদ্ব্যতীত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি শেখানোর জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা উৎপাদন ও মান উন্নয়নে সহায়তা করবে। সবুজ চা-পাতা কাটা ও বিপণনের সময়সীমা নির্ধারণ করে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে বলা হয়েছে। এই সময়ের পরে কোনো কারখানা সবুজ চা-পাতা কিনতে পারবে না, নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩১ ডিসেম্বরের পর সংগৃহীত সবুজ চা-পাতা দিয়ে গ্রিন টি তৈরি চালু করা হবে। এই সমস্ত উদ্যোগে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ দেবে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সমন্বিত ও সময়োপযোগী উদ্যোগগুলো অব্যাহত থাকলে পঞ্চগড় অচিরেই একটি শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সম্ভাবনাময় ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও চা-শিল্প সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে পরিণত হবে। স্থানীয় সচেতন সমাজ মনে করছে, প্রশাসনের দৃশ্যমান উপস্থিতি ও কঠোর তদারকি জেলায় উন্নয়নের নতুন গতি নিয়ে এসেছে। SHARES সারাদেশ বিষয়: