এনবিআরকে বড় সফলতা: ডিসেম্বরে ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের ভ্যাট ক্ষেত্রের বিস্তার ও আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন করেছে। গত ডিসেম্বর মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এক লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। এই সফলতা মূলত ১০ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট দিবস’ এবং ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের ‘ভ্যাট সপ্তাহ’ উদযাপনের সময়ে পাওয়া গেছে, যেখানে ‘সময়মত নিবন্ধন করো, সঠিকভাবে ভ্যাট দিন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। দেশের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটের পরিচালনায় প্রতিদিনের নিরলস অভিযানে এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশের মোট ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ৭ লক্ষ ৭৫ হাজারে পৌঁছেছে, যা আগের সরকারেәб সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আগে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ লক্ষ ১৬ হাজার। ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বর্তমানে দেশের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত অর্থবছরে অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে মোট শুল্ক, ভ্যাট ও আয়করের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ রাজস্ব এসেছে ভ্যাট থেকে, যা এই খাতের গুরুত্বকে নির্দেশ করে। এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বর্তমানে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো ভ্যাট আইনে সংশোধনী। আগের নিয়মে, বার্ষিক টার্নওভার ৩ কোটি টাকার বেশি থাকলে ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল, কিন্তু এখন সেটি কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের অনেকের জন্য ভ্যাটের আওতা বাড়ছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহে দীর্ঘমেয়াদি বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এনবিআর ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে, যার মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও ব্যবসা-বান্ধব হচ্ছে। এখন থেকে উদ্যোক্তারা ‘ই-ভ্যাট’ (eVAT) সিস্টেমের মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন করতে, রিটার্ন দাখিল করতে এবং ভ্যাটের অটোমেটেড রিফান্ড সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। এই সুবিধার মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দিতে এবং অতিরিক্ত পরিশোধিত ভ্যাট সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পেতে পারবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়াটিও আরও সহজ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে এনবিআর দেশের ভোক্তা, ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকের সহযোগিতা কামনা করছে। এই প্রক্রিয়াগুলোর ফলে দেশের অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ও উন্নয়ন ত্বরাণ্বিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন কর্তৃপক্ষ। SHARES অর্থনীতি বিষয়: