মোংলা বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২৬

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরে চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬ অর্থবছর) প্রথম ছয় মাসে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জিত হয়েছে। এই সময়ে, শিপমেন্টের সংখ্যা ও পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ছয় মাসে ২৮টি কন্টেইনার জাহাজসহ মোট ১৭,৩৮৭টি টিইইউএস (Twenty-foot Equivalent Units) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।

বন্দরে এই সময়কার আরেক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের আগমন। গত ছয় মাসে রেকর্ড ৪৪০টি বিদেশী জাহাজ নোঙর করেছে, যার ফলে বন্দরটির রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আনুমানিক গাড়ি আমদানিও বেড়েছে। ছয় মাসে ৫,২৪৪টি গাড়ি দেশের বিভিন্ন অংশে রপ্তানির জন্য নোঙর করে, যেখানে একত্রে ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৭০টি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বন্দরে থেকে রপ্তানি হয়েছে ৪২,৬৭১টি পণ্য।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত, এই বন্দর ২৬টি জাহাজের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন পণ্য আমদানি ও রপ্তানি পরিচালনা করেছে। একই সময়ে, ১১,৫৭৯টি রিন্ডিশনড গাড়ি আমদানি হয়।

আরও উল্লেখযোগ্য তথ্য হলো, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে এই ছয় মাসে মোট ৬৩.৭০ লাখ টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে, এর থেকে বোঝা যায় বন্দরটির পণ্য নিয়ন্ত্রনে দ্রুত অগ্রগতি হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাহিত হয়েছে মোট ১.০৪ কোটি টন পণ্য, যার মাধ্যমে মোংলা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।

উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান বলেন, বন্দরে জাহাজ আসার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে, বেশ কিছু উন্নত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জাহাজ আগমন আরও কার্যকর ও সহজ হয়েছে। আয়োজনের জন্য খাদ্যশস্য, সিমেন্টের কাঁচামাল, সার, অটোমোবাইল, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তৈলবীজ ও এলপিজির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, এই বন্দর থেকে রপ্তানি হচ্ছে দেশের প্রাকৃতিক ও শিল্পজাত পণ্য যেমন সাদা মাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, রেশম কাপড়সহ অন্যান্য রপ্তানি পণ্য।

এমপিএর কর্মকর্তারা জানান, মোংলা বন্দর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম মূল উৎস। এই বন্দর লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, এই বন্দরে ১০.৪১ মিলিয়ন টন পণ্যসম্ভার পরিচালনা করে ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব আয় রেকর্ডে স্থান পেয়েছে। এই সময়ে, নেট মুনাফা ছিল ৬২.১ কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২০৩.৪৯ শতাংশ।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, নদীপথের ড্রেজিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ফলে এখন বড় বড় জাহাজ সরাসরি বন্দরে প্রবেশে সক্ষম হয়েছে, যা নৌচলাচল ও কার্যক্রমের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অতীতে এসব অগ্রগতি কেবল কন্টেইনার ও কার্গো পরিবহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও, বর্তমানে জাহাজ আগমন, কন্টেইনার হার্ডলিং ও ভলিউমের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা গেছে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিরন্তর পরিদর্শন, সমন্বয় ও উন্নয়নের জন্য নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তারা বলছেন, এই উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকায় মোংলা বন্দর আরও বেশি বাণিজ্যিক সক্ষমতা অর্জন করবে।