এলপিজি সিলিন্ডারের সংকট ও উচ্চ দাম: ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬ নতুন বছরেও গ্যাস সংকটের ঝড়ে দেশে চলমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহের ঘাটতি, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পর্যাপ্ত গ্যাসের সুবিধা না থাকা, এলএনজি আমদানির ব্যয়ের বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবাগে অনুসন্ধান কার্যক্রমের স্থবিরতা দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপে ফেলেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য গ্যাসের অসুখে জীবন আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। বিশেষ করে, লাইনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে এলপিজি ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হচ্ছেন। তাদের অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ভোক্তারা নতুন করে ঝামেলার শিকার হচ্ছেন। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ১২ কেজি গ্যাসের সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮৫০ থেকে ২০৫০ টাকায়, যা সাধারণত নির্ধারিত দামের থেকে অনেক বেশি। ভোক্তারা আগে কিছুটা বেশি মূল্য দিয়ে থাকলেও এ রকম অপ্রত্যাশিত দামের বিস্ফোরণ এখন নতুন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। চাহিদা ও সরবরাহের এই অসমঞ্জস্যের কারণে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে শুরু করেছেন, যা ভোক্তাদের জন্য মহা বিপদে ফেলে দিয়েছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান জানান, তিনি ১২ কেজি এলপিজির জন্য শেষ পর্যন্ত ১৮০০ টাকা পর্যন্ত দিতে রাজি হয়েছেন, যদিও আগের দাম ছিল ১২৫৩ টাকা। একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও। কল্যাণপুরের বাসিন্দা ফারজানা নীলা বলছেন, সম্প্রতি সিলিন্ডার খোঁজে মিলছে না, পাওয়া গেলেও দাম ছিল ১৮০০ টাকা। মিরপুরের আসমা আখতারও একই দামের সংগ্রাম করছেন, যেখানে তিনি ২১০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়েছে। এসব দামে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাপন আরও কঠিন হচ্ছে। নিজ এলাকায় নানা ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের মৌসুমে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেও পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। বিইআরসির নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রির প্রবণতা বাড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। বিক্রেতারা প্রত্যক্ষভাবে বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে এখন তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডার কিনতে খরচ হচ্ছে ১৫২০ টাকা, যা সাধারণের হাতে পৌঁছানোর জন্য বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এলপিজির সরবরাহের ক্রমবর্ধমান সংকটের জন্য কোম্পানিগুলোর আমদানি কমে যাওয়া অন্যতম কারণ। এ বিষয়ে ফ্রেশ এলপি গ্যাসের এক কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, জাহাজসংকটের কারণে আমদানি অনেকটাই স্থবির। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে জাহাজ চলাচলের ব্যাঘাত ঘটেছে। ফলে, বাজারে সংকটের মাত্রা আরও বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামীকাল রবিবার নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) জানিয়েছে, তারা সৌদি আরামকো থেকে আসন্ন জানুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী গ্যাসের দাম সমন্বয় করবে। গত ডিসেম্বরে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১,২৫৩ টাকায় নির্ধারিত হয়েছিল। এর পাশাপাশি, অটোগ্যাসের দামও নির্ধারিত হবে। বর্তমানে দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট, যেখানে সরবরাহের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৩০০ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি থাকা সত্ত্বেও চাহিদার গরমিল থাকায় সংকট ক্রমশ জোরা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির চাহিদা বেড়ে যাওয়া ও জাহাজসংকটের কারণে আগামী দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে সরকারের কড়া নজরদারির আওতায় এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। SHARES সারাদেশ বিষয়: