দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স ২০২৫ সালে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬ টানা তিন বছর ধরে অব্যাহত হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেনি। এই বছর, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শেয়ারবাজার সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে ছিল। পশ্চিমবঙ্গের ভারত, পাকিস্তান, এবং শ্রীলঙ্কার বাজারের অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওইসব দেশ ২০২৫ সালে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতে বাংলাদেশের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স এই বছর ৬.৭৩ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৮৬৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যেখানে গত বছরের শেষে এই সূচক ছিল ৫ হাজার ২১৬ পয়েন্ট। অন্যদিকে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক বছরের প্রথম সাত মাসে ৪৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা গত বছরের শেষের সময় ছিল ৭২ হাজার ১৬০ পয়েন্ট। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক এই সময়ে ৪০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ৪৪৬ পয়েন্টে দারুণ উত্থান দেখিয়েছে, যেখানে এক বছর আগে ছিল ১৫ হাজার ৮২৭ পয়েন্ট। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকও বছরে ৮.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ হাজার ৭৯৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এটি ছিল ৭৮ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট। অর্থাৎ তিন দেশের বাজারের উন্নতি হলেও বাংলাদেশের বাজারের অবস্থা অবিরত দুর্বল থেকে দুর্বলতরই হয়েছে। তবে, উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বাজারের মোট বাজারমূলধন ২.৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬২০ কোটি টাকা হয়েছে। কিন্তু লেনদেনের দিক থেকে ছবিটি ছিল নেতিবাচক। ২০২৪ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর ফলে এক বছরে লেনদেন ১৫.৭১ শতাংশ কমে গেছে। জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যাশা ছিল, এর মাধ্যমে অতীতের অনিয়ম, দুর্নীতি দূর হবে এবং শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরে আসবে। তবে, কিছু ঘটনায় বড় অংকের আর্থিক জরিমানা আরোপ করলেও তা বাস্তবে আদায় হয়নি, এবং সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। এ সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে পুঁজিবাজারের অংশীজনদের মধ্যকার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে নানা উদ্যোগ গ্রহণের উদ্যোগগুলোও বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। পুঁজিবাজারের সংস্কার লক্ষ্য্যে গঠিত টাস্কফোর্সের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়ে উঠেনি। মূলত মার্জিন রুলস, বিধিমালা ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এই সংস্কার কার্যক্রম। ২০২৫ সালে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনাও ঘটে। বিনিয়োগকারীর স্বার্থের ভিত্তিতে না চিন্তা করে, পাঁচটি শরয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়, পাশাপাশি তালিকাভুক্ত আরও আটটি ব্যাংক ও বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীর আশা যে অনেকটাই অধরাই রয়ে গেছে, সেটা বোঝা যায়। আগের বছরের মতোই এই বছরেও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: