নওগাঁয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হয়েছেন বিএনপির ছয় নেতা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার কারণে নওগাঁ জেলায় বিএনপির অন্তত ছয়জন নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিছু আসনে একাধিক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের পরিস্থিতি আরও ঢেলে সাজাতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলীয় নেতা-কর্মীরা। তবে দলের কিছু অংশের ধারণা, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারেন।

নওগাঁ জেলায় মোট ১১টি উপজেলা মহাদল নিয়ে গঠিত, যেখানে রয়েছে ছয়টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে নওগাঁ-২ ও নওগাঁ-৪ ছাড়া বাকি চারটি আসনে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। তারা সবাই কর্মী-সমর্থকদের চাপ ও অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করছেন।

১১ ডিসেম্বর নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। শেষ দিনে, অর্থাৎ গত সোমবার, মোট ৫৩টি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্যে ৪১টি জমা পড়েছে। আসন অনুযায়ী, নওগাঁ-১ এ আটজন, নওগাঁ-২ এ ছয়জন, নওগাঁ-৩ এ আটজন, নওগাঁ-৪ এ সাতজন, নওগাঁ-৫ এ সাতজন এবং নওগাঁ-৬ এ পাঁচজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

তবে, দলীয়ভাবে সব আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও নির্বাচনী امرে কিছু অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, নওগাঁ-২ বাদে অন্যান্য ওই পাঁচ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নেতাকর্মীরা আন্দোলন শুরু করেন। এরপরও দল সিদ্ধান্তে অটল থাকায় মনোনয়নপ্রত্যাশী নয়জন নেতা নতুন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছয়জন শেষ পর্যন্ত জমা দিয়েছেন।

নওগাঁ-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ছালেক চৌধুরী, সহসভাপতি নুরুল ইসলাম এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য মাহমুদুস সালেহীন।

ছালেক চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় রাজনীতি করে আসছি এবং মানুষের ভালোবাসায় তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। সাধারণ নেতাকর্মীদের চাপ ও অনুরোধে আমি প্রার্থী হয়েছি। তবে, শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকব কি না, তা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

নুরুল ইসলাম জানালেন, তার মনোনয়নপত্রের জন্য কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে আবেদন ও সংগ্রহের কাজ পরিচালিত হয়েছে।

অন্যদিকে, দলীয় প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি দলের নেতা-কর্মী ও ভোটারদের ওপর আস্থা রাখছি। নেতাকর্মীদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমি ভোটে জিততে পারব বলে বিশ্বাস করি। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের সঙ্গে সমঝোতা চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে দলীয় সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে।

নওগাঁ-২ আসনে, যেখানে বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনবারের সংসদ সদস্য ও কৃষিবিষয়ক কেন্দ্রীয় সম্পাদক সামসুজ্জোহা খান। মনোনয়নপ্রাপ্তির পাশাপাশি, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন খাজা নাজিবুল্লাহ চৌধুরী, তবে তিনি নির্বাচনটি থেকে অবশিষ্টভাবে সরে গেছেন।

নওগাঁ-৪ আসনে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ইকরামুল বারী টিপু। অন্যদিকে, আশা করা হয়েছিল যে, মনোনয়নপ্রার্থী এম এ মতিন দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন, তবে আক্কাস আলী মোল্লা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়নি।

নওগাঁ-৫ আসনে, বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম মনোনয়ন পেলেও, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নজমুল হক সনি। তিনি বলেন, আমি তিনবার পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছি এবং এলাকায় দলের নেতা-কর্মীদের চাপেই আবার নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছি।

নওগাঁ-৬ এ, বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ রেজাউল ইসলাম। তবে, মনোনয়ন পাননি বলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তিনবারের সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। তিনি বলেন, আমি কালো টাকার বিরোধী, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছি। আলমগীর কবিরের মতে, আত্রাই-রাণীনগর এলাকায় ভোটাররা আমাকে চায় বলেই আমি নির্বাচন করতে এসেছি।

উভয় পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপির এই ছয় প্রার্থীর পাশাপাশি, অন্য দল থেকেও বেশ কিছু প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ছয়জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছয়জন, জাতীয় পার্টির পাঁচজনসহ বিভিন্ন দলের মোট ২৯জন প্রার্থী রয়েছে।