চাল-সবজির দাম কমলেও টমেটো ও শসার চাহিদা জেগে উঠেছে

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬

রাজধানীর কাঁচাবাজারে শীতের আমেজ বইছে। দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যবৃদ্ধির কারণে ভুগছে সাধারণ মানুষ, তবে এখন বেশিরভাগ সবজি দাম কমে এসে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে। শীতের মৌসুমে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বাড়ানোর ফলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে শসা ও টমেটোর দাম এখনও চড়া, যা ভোগাচ্ছে ক্রেতাদের পকেট। অন্যদিকে, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই সুখবর আসছে চালের বাজারে। মৌসুমের আমন ধানের সরবরাহ বাড়ায় পাইজাম, গুটি, স্বর্ণা, ব্রি-২৮, শম্পা কাটারি—প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমে গেছে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, মানিকনগরসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি এসব চালের দাম কমেছে অন্যতম ৩ টাকা। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে, অধিকাংশ চালের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম বিক্রয় হচ্ছে। ধরনভেদে চালের দাম ২.৫২ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে পাইজাম, আটাশসহ মাঝারি মানের চালের ক্ষেত্রে।

বিক্রেতাদের মতে, সরকার গুদামে পর্যাপ্ত ধান এবং চাল মজুত রেখেছেন। দেরিতে হলেও ধান-চাল কেনাকাটির প্রকরণ এখন ধীর, কারণ আমনের বাম্পার ফলন ও আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চালের দাম নিম্নমুখী।

বাজারে দেখা গেছে, গুটি, স্বর্ণা, ব্রি-২৮, ব্রি-২৯, পাইজাম ইত্যাদি চালের দাম বর্তমানে ৪৮ থেকে ৫২ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫০-৫৪ টাকা। মাঝারি মানের চাল যেমন, পাইজাম ও আটাশের দাম ১-২ টাকা কমেছে। সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল ও শম্পা কাটারিসহ অন্যান্য চালের দাম ৬৫ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে দাম কেজিপ্রতি ১ টাকা কমেছে। তবে কিছু নির্দিষ্ট চালের দাম সামান্য বেড়েছে, যেমন মিনিকেট, কাটারি নাজির, জিরা নাজির।

মানিকনগর বাজারের চাল বিক্রেতা মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমন মৌসুমের ধান থেকে আগত চালের দাম অনেকটাই কমে গেছে, আরও কিছুটা কমতেও পারে। তবে বোরো মৌসুমের ধান থেকে আসা চালের দাম কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু তা বাজারে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে না কারণ সরবরাহ বাড়ছে।’

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানাচ্ছে, গত বছরে তুলনায় গুটি ও স্বর্ণাসহ মোটা চালের বিক্রি ৪.৫৪ শতাংশ কমে গেছে। মাঝারি মানের চালের দাম ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, এবং কিছু সরু চালের দাম দাঁড়িয়েছে ২.৫২ শতাংশ।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি কাউসার আলম বাবু বলেন, ‘এখন চালের বাজার বেশ stakeholder-friendly, বাজারে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। বোরো ধানের আবাদও শুরু হয়েছে, যদি বড় ধরনের বিপর্যয় না ঘটে, তবে চলতি বছর বাজারের অস্থিরতা কমে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।’

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে ১৬ লাখ ৪৯ হাজার টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। চালের পাশাপাশি ভোজ্যতেল, মসুর ডাল, আটা, ময়দা, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম বেশিরভাগই স্থির আছে। সবজির বাজারেও স্বস্তি দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে বিভিন্ন রকম শাকসবজিতে।

বাজারের খোজে দেখা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি মূলা ও শালগম বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। শিম, বেগুন ও মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, পেঁপে ৪০ টাকায়। ফুলকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং বাঁধাকপি ৪০ টাকায়। আলুর দাম এখন ৩০ টাকা কেজি। পাকা টমেটো ও শসার কেজি এখনও ১০০ টাকায় স্থির। কাঁচামরিচ বিক্রির মূল্য কেজি দরে ১২০ টাকা।

আয়নাল হক নামের একজন বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘আজ বাজার দেখে মনে হচ্ছে শীতের ছোঁয়া এসেছে। সাধারণত বাজারে সবজি বেশি দামে কিনতে হয়, কিন্তু আজ খুব বেশি দাম নেই। অধিকাংশ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। কিছু কিছু কিছু সবজির দাম এখনও বেশি, তবে সামগ্রিকভাবে দাম কমে এসেছে।’

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মৌসুমের কারণে বাজারে সবজির ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মূল্য কমছে কারণ সরবরাহ বেড়েছে। তবে রাস্তার খরচ ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমিয়ে দিলে আরও কম দামে সবজি কেনা সম্ভব হবে।’

সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, দীর্ঘদিনের সুদীর্ঘ মূল্যবৃদ্ধির পরে শীতের মৌসুমে সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য আনন্দের সংবাদ।