দেশের উন্নয়নের চাবি আপনার নিজের হাতে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০২৬ অন্তর্বর্তী সরকার দেশের নাগরিকদের মধ্যে গণভোটের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। এর আওতায় মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি লিফলেট প্রকাশ করা হয়, যেখানে ভোটের ফলাফল কীভাবে দেশের ভবিষ্যত গঠনে অবদান রাখবে তা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লিফলেটে প্রশ্ন করা হয়েছে, ‘আপনি কি চান এমন বাংলাদেশ যেখানে…’, এবং তার বিপরীতে তুলে ধরা হয়েছে ১১টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার। এই সংস্কারগুলোর মধ্যে রয়েছে—তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) গঠনে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দলের যৌথ কাজ; সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য গণভোটের প্রথা চালু; বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব সংসদীয় গুরুত্বে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব; কোনও ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না; সংসদে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা; ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য পার্লামেন্টে উচ্চকক্ষের গঠন; দেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে; নাগরিকের মৌলিক অধিকারে আধার, ইন্টারনেটে অবাধ প্রবেশাধিকারসহ উন্নয়ন; অপরাধীদের ক্ষমা করতে রাষ্ট্রপতির একপাক্ষিক ক্ষমতা থাকবে না; ও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকবে। এর মধ্যে বলা হয়েছে, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে আপনি এই সব পরিবর্তনের অংশীদার হবেন, আর ‘না’ ভোট দিলে এই সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মনে রাখতে হবে, দেশের ভবিষ্যতের চাবি এবার আপনার হাতে। জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ‘গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম’ নামে একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে। এই উদ্যোগের পূর্ণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব রয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। গত সপ্তাহে, নগর ও শহরাঞ্চলের জনবহুল এলাকায় ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল বিলবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু ব্যাপক প্রচারের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভায় দেশের সব সিটি করপোরেশন, প্যানেল মেয়র ও প্রশাসকরা সরাসরি ও অনলাইনে অংশগ্রহণ করেন। এই সভায় ঢাকার দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সভায় মনির হায়দার বলেন, রাজধানীসহ বড় বড় শহরগুলোর প্রবেশপথ ও জনবহুল স্থানে ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে গণভোটের বিষয়বস্তু প্রচার করতে হবে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের জাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভোটারদের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে এবং মসজিদের ইমাম ও অন্য ধর্মের নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে গণভোটের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। আলী রীয়াজ সবাইকে গণভোটের লোগো সর্বত্র ব্যবহার করার আহ্বান জানান, যাতে সেটি জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। আগামী সাত দিনের মধ্যে, বিলবোর্ড, ব্যালট এবং লিফলেটের মাধ্যমে এই প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সবাইকে তাঁদের ক্ষমতার অনুযায়ী সর্বোচ্চ প্রচার চালানোর জন্য অনুরোধ করেন। একই সঙ্গে, তথ্য ও সম্প্রচার ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত কনটেন্টগুলো যত সম্ভব বেশি স্থানে প্রচারের জন্য বলা হয়। এই কার্যক্রম দেশের সচেতনতা বৃদ্ধি ও গণভোটের সফলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। SHARES জাতীয় বিষয়: