দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পুঁজিবাজার Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২, ২০২৬ টানা তিন বছর ধরে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের ফলে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের আস্থার কাঙ্ক্ষিত পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। এই বছর বাংলাদেশের শেয়ারবাজার দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে ছিল। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সূচক ডিএসইএক্স ৬.৭৩ শতাংশ পতিত হয়ে ৪,৮৬৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছরের শেষে এই সূচক ছিল ৫,২১৬ পয়েন্ট। এর বিপরীতে, পাকিস্তানের কেএসই সূচক ৪৫.২৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,০৪৩,৭৩৪ পয়েন্টে পৌঁছে গেছে, যা ২০২৪ সালের শেষের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। শ্রীলঙ্কার সিএসই অল সূচক ৪০.৭৭ শতাংশ বেড়ে ২২,৪৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের ১৫,৮২৭ পয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি। ভারতের বিএসই সেনসেক্স সূচকও ৮ শতাংশের বেশি বৃদ্ধিতে ৭৮,৮০০ পয়েন্টের কিছু বেশি হয়েছে। তবে সূচক কমলেও, বাংলাদেশের মোট বাজার মূলধন ২০২৫ সালে ২.৩৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৬৭৮,৬২০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অন্য দিকে, লেনদেনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল হতাশাজনক। ২০২৪ সালে দৈনিক গড় লেনদেন ছিল প্রায় ৬৩১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৫২১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়, অর্থাৎ এক বছরে লেনদেনের পরিমাণ ১৫.৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের আশা ছিল—অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটবে এবং শেয়ারবাজারে আস্থা ফিরে আসবে। তবে কিছু বড় অঙ্কের জরিমানা ঘোষণার পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি, আর সরকারের সরাসরি নির্দেশনা থাকলেও সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত করতে সক্ষম হয়নি। পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছিল, যার ফলে সংস্কার উদ্যোগগুলো বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস অর্জনে ব্যর্থ হয়। অবশ্য, মার্কিন মার্জিন রুলস ও মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিনিষেধের মধ্যেই সংস্কার কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৫ সালে কিছু নেতিবাচক ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন অকার্যকর করা এবং আরও আটটি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবমিলিয়ে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে প্রত্যাশা করা অনেক কিছুই অপূর্ণ থেকে যায়, কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়ন বা সফলতা পায়নি, এবং আগের বছরগুলোর মতো এই বছরেও শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে রেখেছে। SHARES অর্থনীতি বিষয়: