খালেদা জিয়াকে আমাদের মাতৃস্নেহে দেখতেন ডা. জাহিদ Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬ বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ দর্শন ও মানবিক গুণাবলীর স্মৃতি তুলে ধরে তার দীর্ঘকালো ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন গভীর আবেগে স্মৃতিচারণ করেছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ছিল শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি ছিলেন একজন মহান মাতৃস্নেহের পরশদূত, যিনি তাঁর দলের নেতা-কর্মী এবং জনতার জন্য ছিল অগ্রজদর্শক। তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার আতিথেয়তা ছিল অপূর্ব, তার বাসভবনে কেউ এসে যদি কিছু না খেয়ে ফিরতেন, সেটি শুভ লক্ষণের মধ্যে পড়ত না। ডা. জাহিদ স্মরণ করেন, খালেদা জিয়া সবসময় দেশ ও দেশের জনগণের জন্য ব্যাপক চিন্তা-চেতনায় উদ্দীপিত থাকতেন। তিনি ছিল অত্যন্ত জনবান্ধব নেতা, যিনি সাধারণ মানুষের ভোগান্তির পাশে থাকতেন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কখনোই জনবিরোধী প্রবণতা প্রশ্রয় দিতেন না। একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া তার শারীরিক অবস্থার পুরো পরিস্থিতি বুঝে সর্বদা চিকিৎসকদের পরামর্শ মানতেন। তাঁর ওপর চিকিৎসকদের অগাধ আস্থার কথা জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, শারীরিক জটিলতা যতই থাকুক না কেন, তিনি সবসময় নির্দেশনা অনুসরণ করতেন। এমন ধৈর্য্য ও সহযোগিতা শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর মধ্যে দৃঢ় ছিল, যা চিকিৎসকদের মনে গভীর প্রশংসা সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৮০ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান নেত্রীর এ প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মরদেহ বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালেই রাখা হয়েছে এবং দাফন ও জানাজা প্রস্তুতির কাজ চলছে পরিবারের ও দলের পক্ষ থেকে। এই বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে যেন এক যুগের অবসান ঘটল, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। SHARES রাজনীতি বিষয়: