কর্মঘণ্টায় ফেসবুক ব্যবহার করলে চাকরি থেকে অব্যাহতি: প্রধান বিচারপতির কঠোর নির্দেশনা

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১, ২০২৬

দেশের অধস্তন আদালতের বিচারকদের জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এক বিশেষ ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে, নির্ধারিত বিচারকাজের কর্মঘণ্টার মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। যদি কোনো বিচারক এই নিয়ম অমান্য করে এবং তার সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে তার বিচারিক জীবনের অবসান হতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই কঠোর বার্তার মাধ্যমে তিনি বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সময়ের সঠিক ব্যবহারে গুরুত্ব দিয়েছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, বিচারআসনে বসে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের অবশ্যই সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে, যদি কেউ এর ব্যতিক্রম করে তার জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি দ্রুত, অর্থাৎ তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে রায় প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। রায় দেরি হলে নথি আবার বিশ্লেষণ করতে হয়, যা সময়ের অপচয় ও সাধারণ মানুষকারা ভোগান্তি বাড়ায়। এই জন্য সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আদালতের সময় বিচারিক কাজে সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেন।

এর পাশাপাশি আদালতের পরিবেশ সংরক্ষণ ও বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেছেন, আইনজীবী ও মামলার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কেউ আদালতকক্ষে প্রবেশ করা উচিত নয়। আদালত প্রাঙ্গণে হকার বা অপ্রয়োজনীয় লোকজনের উপস্থিতি বন্ধ রাখতে হবে। আইনজীবীদের অবশ্যই যথাযথ ড্রেসকোড মেনে চলার বিষয়েও তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২৩ ডিসেম্বর দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি এই প্রথমনী কঠোর এবং দিকনির্দেশনামূলক বার্তা দিলেন। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষা।