মূল্যহ্রাসে বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২৫

নিত্যপণ্যের বাজারে শীতকালীন প্রভাবে বাতাসে শীতলতা অনুভূত হলেও, মৌসুমি সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ এখন বাজারে দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সবজির দাম ধারেছে নিম্নমুখী। পাশাপাশি, ব্রয়লার মুরগির কেজি মূল্য ২০ টাকার মতো বেড়ে গেছে, যেখানে সোনালি মুরগি ৩০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মূল কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ফিডের দাম ও খামার পর্যায়ের খরচ বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ইলিশ মাছের সরবরাহ কয়েকগুণ বেড়েছে, যা বাজারে দাম কমানোর অন্যতম কারণ।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতকালীন সবজির সরবরাহ প্রতিদিনই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বাজারে দর কমে এসেছে, ফুলকপি, শিম, লাউ, টমেটোসহ অন্যান্য সবজি এখন বেশ কম দরে কেনা যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশের ফুলকপি উৎপাদন ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাঁধাকপি তার চেয়ে কম হলেও প্রায় ৪ শতাংশ বেশি উৎপাদিত হয়েছে। তবে মৌসুমের শুরুতে সবজির দাম সাময়িকভাবে বেশি থাকছে, কারণ প্রথমে আসা সবজির আকার ছোট হয় এবং সরবরাহ কম থাকায় দাম ওঠে ওঠে।

শীতের অন্যতম জনপ্রিয় সবজি হল ফুলকপি, যা রান্না, ভাজি, স্যুপ, সালাদ হিসেবে বিভিন্ন রকম উপভোগ করা হয়। বাঁধাকপি ও এই সবজিগুলোর চাষ ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন, বিশেষ করে গত দু’বছরে ভালো দাম পাওয়ায় তারা এবার বেশি পরিমাণে এই সবজি লাগিয়েছেন। এঁরা আশা করছেন, চলতি শীত মৌসুমে ভালো ফলন ও দাম পাবেন।

চাষের কেন্দ্র হিসেবে যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ খুলনা ও রাজশাহীর বিভিন্ন জেলা বেশি ফুলকপি ও বাঁধাকপি সরবরাহ করছে। পাশাপাশি, মানিকগঞ্জ ও সাভারসহ ঢাকার আশপাশের এলাকা থেকেও এই সবজি বিক্রি হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলকপি ও বাঁধাকপি এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, জনপ্রিয় কিছু জাতের মধ্যে রয়েছে বারি ফুলকপি-১ (রুপা), বারি ফুলকপি-২, ৩, স্নো হোয়াইট, হোয়াইট ফ্লাশ ২০২০ ও অটাম জায়ান্ট হাইব্রিড। বাঁধাকপির জন্য রয়েছে বারি বাঁধাকপি-১ ও ২, যা গ্রীষ্মকালেও চাষ করা হয়।

ঢাকার কারওয়ান বাজারের আড়তদার আবদুল কাদির ভূইয়া জানান, এ মৌসুমে তারা প্রতি পিস ফুলকপি ২০ থেকে ৩৫ টাকায় কিনছেন, এবং পরে পাইকারদের কাছে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারে এগুলো বড়দের জন্য ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া, অনেক কৃষক সরাসরি ঢাকায় এসে এসব সবজি বিক্রি করেন, যেমন যশোরের নোঙ্গরপুরের কৃষক আবদুস সাত্তার গত বছর সাড়ে পাঁচ বিঘা জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন। এখনও তিনি আংশিক বিক্রির মাধ্যমে ভালো দামের আশায় থাকছেন।

অপরদিকে, রাজধানীর নিউমার্কেটের বনলতা বাজারে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ব্রয়লার মুরগির কেজি দাম এখন ১৯০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকা, এবং লেয়ার মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বৃদ্ধির জন্য বিশ্লেষকরা ফিডের মূল্য ও খামার খরচ বৃদ্ধিকেই দায়ী করেছেন, যার ফলে বাজারে মূলত এই দাম উঠেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ফিডের দাম অনেক বেড়েছে, ফলে খামারিদের খরচ বাড়ছে। অগ্রগামী বিক্রেতারা আশাবাদী, বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষও সুবিধা পাবে।

এছাড়া, মাছের বাজারে ইলিশ এখন অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি আকারের ইলিশের দাম কেজিতে ১৫০০ টাকা এবং বড় আকারের ইলিশের দাম ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। বনলতা বাজারের একজন বিক্রেতা বলেন, সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু জ্বালানি ও পরিবহন খরচের কারণে দাম এখনও কমেনি। মাঝারি আকারের ইলিশের চাহিদা বেশ ভালো। এছাড়া, অন্যান্য মাছের মূল্যও চড়া; রুই, কাতল, মৃগেল এবং পাঙ্গাশের দাম প্রায় ১৯০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। আরো বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম উল্লেখ্য, যেমন)- মাগুর ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-২৫০ টাকা, সিলকার্প ২৫০-৩০০ টাকা, বোয়াল ৫০০-৭০০ টাকা, কালিবাউশ ৪৫০ টাকা, আইড় ৬০০ টাকা, পাশাপাশি ছোট মাছের মধ্যে কাঁচকি মাছ ৪৫০ টাকা, মলা ৩০০ টাকা, পাবদা ৩০০-৬০০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি ৬৫০-১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।