নবজাতক শিশুকে মায়ের আঁচলে ফেলে রেখে পালালেন মা, নওগাঁয় চাঞ্চল্য Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০২৫ নওগাঁর মান্দায় জন্মের মাত্র কিছু ঘণ্টার মধ্যেই মা-এর অবহেলায় হাসপাতালের বেডে পড়ে রয়ে গেল এক নবজাতক কন্যা। নিজের মায়ের হাতে ফেলে যাওয়া এই শিশুকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা বা সাহস দেখাতে পারেননি হতবাক বাবা। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী বাবা তৌহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন থানায় লিখিত অভিযোগ। ভুক্তভোগী বাবা তৌহিদ ইসলাম (২৫) নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার চকহরি বল্লভ গ্রামের বাসিন্দা। দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে তিনি মান্দার সাহাপুর (ফজিদারপাড়া) গ্রামের লছের আলী মণ্ডলের মেয়ে সাথী আক্তারকে বিয়ে করেন। তৌহিদের ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী সাথী আক্তার তিন মাস ধরে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রসব বেদনা শুরু হলে খবর পেয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে যান। পরে স্ত্রী ও শাশুড়িকে নিয়ে স্থানীয় তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি হন। সেদিন সন্ধ্যার দিকে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম নেয় সাথী আক্তার। কিন্তু এই সুখের মুহূর্ত দীর্ঘস্থায়ী হলো না। চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ আনতে বাজারে গেলে তৌহিদ ইসলাম ফিরে এসে দেখেন, সন্তানকে কোলে না নিয়ে হাসপাতালের বেডে পড়ে থাকা নবজাতককে। মা সাথী আক্তার ও নানি শিশুটিকে ফেলে পালিয়ে গেছেন। আবেগাপ্লুত তৌহিদ ইসলাম বলেন, “সন্তান জন্মের আনন্দে আমি ভাসছিলাম, কিন্তু ফিরে এসে দেখলাম আমার সবচেয়ে বড় এই সুখের পরিণত হলো এক দুঃস্বপ্নে। স্ত্রীর ও শাশুড়ির এই অবহেলা আমাকে হতবাক করে দিল। এখন আমি অসহায় এই শিশুকে নিয়ে দিশেহারা।” প্রতিবেদকের প্রশ্নে সাথী আক্তার জানান, “বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল। আমি সন্তান চাইনি, কিন্তু হয়ে গেছে। এখন আর এই সংসার চালাতে পারবো না, তাই সন্তানও পালন করব না।” এদিকে, মান্দা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামছুর রহমান বলেন, “তৌহিদ ইসলামের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সাথী আক্তার দাবি করেছেন, তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করবেন না এবং সন্তানের দায়িত্বও নেবেন না। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অসহায় এই নবজাতক শিশুর দিকে তাকিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ এখন শুধু একটাই প্রশ্ন করছেন—মায়ের আঁচলে ফেলে যাওয়া এই শিশুটি ভবিষ্যতে কী করবে, কেমন করবে তার জীবন?” SHARES জাতীয় বিষয়: