গাজা সিটির নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক অভিযান শুরু

Staff Staff

Reporter

প্রকাশিত: ২:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৫

ফিলিস্তিনের গাজা শহরের গভীর ভেতরে নতুন এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ট্যাংক সহ অনুপ্রবেশ করেছে। এই অভিযান চলাকালে তারা স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বিস্ফোরক নিক্ষেপ করছে, ফলে আশপাশের বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে অসংখ্য স্থানীয় বাসিন্দা আতঙ্কে সেখান থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।

একের পর এক এই ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যে গাজা শহর থেকে সবাইকে সড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। তাদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে, শহরটি সংরক্ষণ বা দখল করার জন্য তারা কঠোর পরিকল্পনা করছে, এজন্য শহর খালি করে নিতে হবে।

বাসিন্দাদের মতে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো গাজা শহরের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ঢুকে গোলাবর্ষণ করতে শুরু করে। এতে অনেকে গুরুতর আহত হন এবং অনেকেই শহর থেকে পালা দিতে বাধ্য হন। ৬০ বছর বয়সি বাসিন্দা সাদ আবেদ জানান, “আমরা শুনেছি, এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক প্রবেশ করেছে। বিস্ফোরণের শব্দ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ল, আমরা দেখলাম, বহু মানুষ পালিয়ে আসছে। যদি কোনও যুদ্ধবিরতি না হয়, তাহলে এই ট্যাংকগুলো আমাদের বাড়ির সামনেও এসে পৌঁছাবে।”

অন্যদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজা শহরে নতুন এক অপারেশন শুরু করতে প্রস্তুত হচ্ছে। উত্তেজনার মধ্য দিয়ে দাবি করা হয়েছে যে, এই শহরটি মূলত হামাসের শক্তিশালী ঘাঁটি হওয়ার কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে কাজ করছে।

গাজার প্রায় ২২ লাখ বাসিন্দাদের মধ্যে বেশির ভাগই বর্তমানে এই শহরে বসবাস করছে। তবে ইসরায়েল ঘোষণা করেছে, তাদের পুরো জনসংখ্যাকেই সরিয়ে নেয়া হবে। তবে গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, তারা কোনওভাবেই সরে যাবে না, কারণ দক্ষিণে পালানো মানে মৃত্যু নিশ্চিত।

ওদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি বলেছেন, “গাজা শহরটি খালি করাটা অনিবার্য। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল বিপুল ফাঁকা এলাকা প্রস্তুত আছে। মধ্যাঞ্চলের আশ্রয় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ও আল-মাওয়াসিতে অনেক জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে।’’

আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, “হোয়াইট হাউজে আগামী বুধবার গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আমরা আশা করছি, এই বছরেই যুদ্ধের অবসান সম্ভব হবে।” এছাড়া, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

গাজার পূর্ব অংশে চলমান সংঘর্ষে আবারো তীব্র গোলাগুলি শোনা যাচ্ছে। শহরটির স্বাস্থ্য কার্যালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

অভ্যুত্থান ও ধ্বংসযজ্ঞের পেছনে ইসরায়েলি সেনারা দাবি করছে, তারা হামাসের সন্ত্রাসী কার্যক্রম মোকাবিলার জন্য এমন অভিযান চালাচ্ছে। তারা উল্লেখ করে, গত ২২ আগস্ট পূর্ব গাজায় হামাসের শীর্ষ গুপ্তচর ও নিরাপত্তা প্রধান মাহমুদ আল-আসওয়াদের হত্যা করেছে। তবে হামাস এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

অবশ্য, এই চলমান সংঘর্ষের ফলে ইসরায়েলি বিক্ষোভও তুঙ্গে উঠেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ গাজার যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামেছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে চলছে আন্তর্জাতিক চাপ এবং শান্তি আলোচনা। কিছু দিন আগে, বেশ কিছু নিরাপত্তা চুক্তি ও যুদ্ধবিরতি প্রকল্পের প্রস্তাবও উঠেছে, তবে এখনও পর্যন্ত কার্যত কোন সমাধান আসেনি।

গাজার অবরোধ এবং হামলার কারণে তীব্র মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। গাজার অধিকাংশ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন, খাবার ও জলের সংকট বেড়েই চলেছে। এর ফলে, অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং এক লক্ষের বেশি শিশুর অপুষ্টির ঝুঁকি বাড়ছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, গোটা এলাকায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি কার্যত বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।