রাতারাতি বৈষম্য দূর হবে না: মির্জা ফখরুল Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০২৫ বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান বৈষম্য নিয়ে কথা বলছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করেছেন, রাতারাতি এই সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব নয়, তবে তিনি বিশ্বাস করেন এই রাষ্ট্রের কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। মির্জা ফখরুল বলেছেন, দেশের রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের চূড়ান্ত পর্যায়ে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি। একইসঙ্গে নির্বাচন প্রক্রিয়াও এখনো স্বচ্ছ নয়। তিনি জানান, দীর্ঘকাল ধরে আমরা যে সংগ্রাম ও লড়াই করেছি, তা মুহূর্তের মধ্যে সমাধান হবে—এমন ধারণা ভুল। এসব বিষয়ের জন্য সময় ও ধৈর্য্য প্রয়োজন। শনিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সামাজিক সুরক্ষা কতটুকু সু-রক্ষিত’ শিরোনামের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অর্পণ আলোক সংঘ নামের একটি সংগঠন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু ও পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন অর্পণ আলোক সংঘের চেয়ারম্যান বীথিকা বিনতে হোসাইন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা এখনো রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কারের কথা বলছি, পাশাপাশি অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নের কথাও বলছি। তবে, দীর্ঘকাল ধরে চলতে থাকা অনাচার, অবিচার, নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসন থেকে একদিনে একটি সুস্থ ও সুন্দর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন সুযোগের সৃষ্টি হয়েছে। ৫২ বছর ধরে নিয়মিত ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি দেশ। তাই, সবকিছু একসাথে ঠিক করা সম্ভব নয়, আমাদের ধৈর্য্য ধরে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরও আন্তরিকতা ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকতে হবে। বিশেষ করে, রাষ্ট্রের কাঠামো সংস্কারে তিনি জোর দেন এবং বলেন, এই পরিবর্তন না আসলে বৈষম্যহীন সমাজ গড়া কঠিন। ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছি, যদি কাজে লাগানো যায় সেই সুযোগ, তাহলে হয়তো কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দেশের প্রশাসনিক বিভাগগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কয়েকজন আমলারা। তারা নিজস্ব সুবিধা বোঝার জন্য সাধারণ মানুষকে ঢাকায় আসতে বাধ্য করেন, যেখানে প্রতিটি পদে ঘুষের ব্যাপার রয়েছে। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—প্রতিটি নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষের বিষয় উল্লেখযোগ্য। এই системের কারণেই রাতারাতি পরিবর্তন আনা অসম্ভব। অনুষ্ঠানে জোনায়েদ সাকি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো শ্রমজীবী মানুষের আন্দোলনের দাবি-দাওয়ার সঙ্গেই নিজেকে যুক্ত করা। ২০১৫ সালে গণসংহতি আন্দোলনকে একটি রাজনৈতিক সংগঠনে রূপান্তর করি। এতে বাংলাদেশের মানুষের লড়াই সংগ্রামে অবদান রাখতে পেরেছি।’ তিনি বলছেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ রাখা। এখানে শ্রেণি পার্থক্য মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। ধনী-গরিবের মধ্যে এই পার্থক্য বিস্তার ঘটিয়েছে। গত ৫৪ বছরে ক্ষমতায় থাকা দলগুলো যে নীতি গড়ে তুলেছে, তা দরিদ্র ও নিপীড়িত মানুষদের জন্য কোনো সমতা বা ভারসাম্য তৈরি করেনি।’ ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে ব্যাংক লুটের ঘটনা ব্যাপক হলেও এখনো লুটের ঘটনা বন্ধ হয়নি। একটা সময় ব্যাংক লুট করে বিকাশ ঘটানো হয়েছে, এখনো চলছে। ব্যাংকিং খাতের এই অবস্থা আমাদের প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয়ের পরিচায়ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির মধ্য দিয়ে লুটের ঘটনা ধরা পড়ে, কিন্তু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনও জবাবদিহিতা নেওয়া হয়নি। এই অবস্থা পরিবর্তন করার জন্য শক্তিশালী জবাবদিহিতা প্রয়োজন।’ SHARES রাজনীতি বিষয়: