দেশে তিন বছরে দারিদ্র্য হার ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৫ তিন বছরের মধ্যে দেশে দারিদ্র্যহার প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এখন এই হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ, যা থেকে স্পষ্ট যে দারিদ্র্য বাড়ছে। এর পাশাপাশি, আরও ১৮ শতাংশ পরিবারের দারিদ্র্যের সীমার কাছাকাছি রয়েছে এবং তারা যেকোনো সময় দারিদ্র্যসীমায় পড়ে যেতে পারে। গতকাল সোমবার, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) প্রকাশ করেছে এক গবেষণাপত্র, যেখানে দেশের দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই বিশ্লেষণের শিরোনাম ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’। সংগঠনের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। গবেষণা অনুযায়ী, গত ৮ মে থেকে ৩১ মে অবধি দেশের ৮,৬৭৮টি পরিবারের ৩৩,২০৭ জনের মতামত নিয়ে এই জরিপ সম্পন্ন হয়। এটাই মূলত দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির একটি সতর্কবার্তা দেয়। পিপিআরসি বলছে, দেশের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলো হলো- কোভিড-১৯ মহামারি (২০২০-২০২২), উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা। ফলে দেশের বিভিন্ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনটি আরও জানায় যে, গত বছরের আগস্টের পর থেকে ঘুষের পরিমাণ কমেছে। আগে যেখানে নাগরিকরা সরকারি সেবা নিতে গিয়ে প্রায় ৮.৫৪ শতাংশ সময়ে ঘুষ দিতেন, সেখানে এখন এটি কমে ৩.৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এখনো সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বেশি ঘুষ দিতে হয়। এছাড়াও, পরিবারের মোট আয়ের ৫৫ শতাংশ খরচ হয় খাবার কিনতে। তাদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বিস্তার স্পষ্ট, নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির লোকজনের আয় হয়তো বেশি হলেও তারা زیادہ খরচ করেন ধার-দেনা করে। অন্যদিকে, উচ্চবিত্তের আয় কম খরচে পরিচালিত হচ্ছে। বৈষম্য, হয়রানি ও দুর্নীতির পরিমাণও বেড়েছে। গত সরকারের সময় যেখানে ঘুষের হার ছিল ২১.৫১ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৩০.৭৯ শতাংশ। অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান জোর দিয়ে বলেছেন, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে হলে সাধারণ মানুষের জীবনমানের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের নীতিতে এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে হবে। অনেকসময় অর্থনৈতিক ক্ষতি বা উন্নয়নের কথা আলোচনা হয়, তবে যার অনেকাংশই হয়রানি ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যায়, সেটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। সাধারণ মানুষ যাতে ঝামেলা কমাতে বেশি ঘুষ দিতে বাধ্য হয়, এই বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যা ২১.৫১ শতাংশ ছিল, তা বেড়ে বর্তমানে ৩০.৭৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ড. রহমান আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজনৈতিক নীতিগুলোর গঠন করতে হবে। অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নতিকে তুলে ধরা হলেও, সমতা, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দিকেও মনোযোগ দিতে হবে। বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারও মূলত মুষ্টিমেয় অর্থনীতির দিকে নজর দিচ্ছে, যা সংশ্লিষ্ট সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সেজন্য, জনমুখী ও সামগ্রিক কল্যাণের দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেয়া জরুরি। SHARES অর্থনীতি বিষয়: