বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫৬তম সীমান্ত সম্মেলনে মূল আলোচনা ও যৌথ বিবৃতি Staff Staff Reporter প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২৫ ৪ দিনব্যাপী (২৫-২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৫৬তম মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন আজ সমাপ্ত হয়েছে। এই সম্মেলনে দুটি সাংগঠনিক প্রতিনিধিদল অংশ নেয়, যার মধ্যে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ছিল। এতে বিজিবি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, নৌপরিবহন, সড়ক, ভূমি জরিপ, যৌথ নদী কমিশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ভারতের পক্ষের প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিএসএফের মহাপরিচালক শ্রী দালজিৎ সিং চৌধুরী, আইপিএস এর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের ভারতীয় দল। এতে ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ছিলেন। সম্মেলনের মূল আলোচনাগুলোর সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ: প্রথমত, সীমান্তে অবিরাম গুলির ঘটনা ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা ও আহতের ঘটনায় বিজিবি মহাপরিচালক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জবাবে বিএসএফ মহাপরিচালক নিশ্চিত করেন যে, অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন ও রাতের সময় সতর্কতার মাধ্যমে এ ধরণের ঘটনা কমানোর জন্য কাজ হবে, এবং উভয় পক্ষ একত্রে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালানো, সীমান্তের অক্ষুণ্ণতা রক্ষা ও অপরাধীদের অবস্থানের উপর নজরদারি অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। দ্বিতীয়ত, অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য বিএসএফের চেষ্টার বিষয়টি উত্থাপন করেন বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি বিশেষ করে বলপূর্বক বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা ও মিয়ানমারের রফতানি অনুপ্রবেশের বিষয়গুলো উত্থাপন করেন। ভারতের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন যে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর জন্য স্বীকৃত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তৃতীয়ত, মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, স্বর্ণ, জাল টাকা ও অন্যান্য চোরাচালানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ। তারা রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় ও সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে এসব চোরাচালান রোধে একমত হন। চতুর্থত, উভয় পক্ষ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার, সীমান্তের স্তম্ভ ভাঙা ও অন্যান্য অপরাধ ঠেকানোয় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা করে। তারা সীমান্তের অখণ্ডতা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য একমত হন। পঞ্চমত, সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ না করার এবং চলমান কাজগুলো দ্রুত শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া, যৌথ নদী কমিশনের অনুমোদিত নদীর তীর সংরক্ষণ ও অপ্রমাণিত নদীগুলোর ওপর নজরদারি চালানোর বিষয়েও তারা একমত হয়। ষষ্ঠত, ‘কানেক্টেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় দহগ্রামকে তিনবিঘা করিডরের মাধ্যমে অটপিক্যাল ফাইবার ডিজিটাল সংযোগের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ভারতীয় প্রতিনিধিরা কার্যকর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেন। সপ্তমত, আন্তঃসীমান্তে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অবস্থান নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং রিয়েল-টাইম তথ্য বিনিময় করে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম চালানোর উপর একমত হন। অষ্টমত, ঘোলার মুহুরীর চর ও অন্যান্য নদীতে স্থায়ী সীমান্ত পিলার নির্মাণ ও সীমান্তের মানচিত্র নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। প্রসঙ্গত, বিজিবি এর জন্য জোর দেন এবং বিএসএফ বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার কাছে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। নবমত, তারা অপ্রয়োজনীয় আকাশসীমা লঙ্ঘন এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য রিয়েল-টাইম ফ্লাইট তথ্য শেয়ার নিশ্চিত করবেন। দশমত, উভয়পক্ষ গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর গুজব ও অপপ্রচার বন্ধ করে সীমান্তে উত্তেজনা রোখার জন্য একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। উপসংহারে, দুই মহাপরিচালক সম্মেলনের ফলাফলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। SHARES জাতীয় বিষয়: